Saturday, 27 March 2021

শবে বরাত - ফজিলত ও আমল - করণীয় ও বর্জনীয় ও বিদআত |

শবে বরাত - ফজিলত ও আমল - করণীয় ও বর্জনীয় ও বিদআত শবে বরাত - ফজিলত ও আমল - করণীয় ও বর্জনীয় ও বিদআত ||| 

"শবে বরাত"। শাবান মাসের দিবাগত ১৪ তারিখের রাতকে শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাতের রাত বলা হয়। শবে বরাত শব্দটি একটি পারিভাষিক শব্দ। ফারসি ভাষা থেকে আগত এই শব্দের অর্থ হলো: "শব" শব্দের অর্থ রাত, "বরাত" শব্দের অর্থ ভাগ্য। এক কথায় যার অর্থ ভাগ্য রজনী। কোথাও আবার গুনাহ মাফের মুক্তি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
কুরআন বা হাদিসে শবে বরাতের কথা কোথাও উল্লেখ নাই। নবী করীম (স:) ও সাহাবীরা যে শব্দটি ব্যবহার করেছেন তা হলো: "লাইলাতুন নিসফি মিনাশ শাবান"। এই মহিমান্বিত রাতের মধ্যে রয়েছে গুনাহ থেকে মুক্তি ও কল্যাণ লাভের অফুরন্ত সুযোগ। এই মাস প্রচুর নেকি ও কল্যাণের মাস এইজন্যই মাসের নাম রাখা হয়েছে শাবান। আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য যে ফজিলত ও দৈনিক শবে বরাতের রাত মনে করেন।
 "আল্লাহ তাআলা কুরআন মজীদে বলেনঃ" হামিম" শপথ! উজ্জ্বল কিতাবের। "ইন্না আনযালনাহু ফি লাইলাতিম মোবারকাতিন ইন্না ইন্না কুন্যা মুঞ্জিরিন" - অর্থ আমি একে অবতীর্ণ করেছি, এক বরকতময় রাত্রে। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। - (সুরা দুখান আয়াত নাম্বার ৩)"
মুফাসসিরগণ বলেন: এখানে লাইলাতুল মোবারাকা বা বরকতময় রজনী বলে শাবান মাসের পূর্ণিমা রাত কে বুঝানো হয়েছে।(তাফসীরে মাযহারী, রুহুল মাআনী রুহুল বায়ান) হযরত ইকরিমা (র:) সহ কয়েকজন তাফসীর বিদ থেকে বর্ণিত সুরা দুখানের তিন নাম্বার আয়াতে লাইলাতুল মুবারাকা বলতে যে রাতকে বোঝানো হয়েছে সেটাই "শবে বরাত"। (তাফসীরে মারেফুল কোরআন)

হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা:) থেকে বর্ণিত: একবার রাসূল (স:) নামাজে দাঁড়ালেন এবং এত দীর্ঘ সময় সেজদা করলেন যে আমার মনে হলো তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন তার পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলে নড়া দিলাম তিনি সিজদা থেকে উঠে নামাজ শেষ করে আমাকে লক্ষ্য করে বললেন। হে আয়েশা তোমার কি এ আশঙ্কা হয়েছে? ইয়া রাসুলাল্লাহ (সা:) আপনার দীর্ঘ সিজদা দেখে আমার আশঙ্কা হয়েছে যে আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কিনা! নবীজি (সা:) বললেন তুমি কি জানো এটা কোন রাত? আমি বললাম , আল্লাহ ও আল্লাহর (সা:) ভালো জানেন । তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম বললেন এটা হল অর্ধ শাবানের রাত । এ রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি মনোযোগ দেন। ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করে দেন ।অনুগ্রহ প্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন, আর বিদ্বেষ পোষণ কারীদের তাদের অবস্থা তেই ছেড়ে দেন। (শুয়াবুল ঈমান তৃতীয় খন্ড পৃষ্ঠা ৩৮২) হযরত আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবীজি (সা:) এ রাতে মদিনার কবরস্থান জান্নাতুল বাকীতে এসে মৃতদের জন্য দোয়া ও ইস্তেগফার করতেন তিনি আরো বলেন (সা:) তাকে বলেছেন এ রাতে বনি কালবের ভেড়া বকরির পশমের সংখ্যার পরিমাণের চেয়েও বেশি সংখ্যক গুনাগার কে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। (তিরমিজি শরীফ হাদিস ৭৩৯)

শবে বরাতের রাতে যে সমস্ত নফল ইবাদত করতে হবে । (সা:) বলেন যখন শাবানের মধ্যে দিবস আসবে তখন তোমরা রাতে নফল ইবাদত করবে আর দিনে রোজা পালন করবে। এর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হল নামাজ সুতরাং নফল ইবাদতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো নফল নামাজ। প্রতিটি নফল ইবাদতের জন্য সুন্দর করে অজু করা মুস্তাহাব। বিশেষ ইবাদত এর জন্য গোসল করা ও মুস্তাহাব। ইবাদতের জন্য অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর।
হযরত আলী থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেছেন 14 শাবান দিবাগত রাত যখন আসবে তখন তোমরা এটা ইবাদত-বন্দেগিতে কাটাবে এবং দিনের বেলায় রোজা রাখবে। কারন এদিন সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তা'আলা দুনিয়ার আসমানে (১ম আসমান) নেমে আসেন এবং আহ্বান করেন - কোন ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমি ক্ষমা করবো। কোন রিযিক প্রার্থী আছে কি? আমি রিজিক দেব। আছো কি কোন বিপদগ্রস্ত? আমি উদ্ধার করব। এভাবে ভোর পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে আহবান করতে থাকেন। - (ইবনে মাজাহ হাদিস ১৩৮৪)

মধ্য শাবানের নফল রোজা রাসুলুল্লাহ বলেন যখন সাবানের মধ্যে দিবস আসে (সা:) তোমরা রাতে নফল ইবাদত করো দিনে রোজা পালন করো (সুনানে ইবনে মাজাহ) এছাড়া প্রতি মাসের ১৩,১৪,১৫ তারিখ আইয়ামে বীজের রোজা তো রয়েছেই। আদি পিতা হযরত আদম আলাই সাল্লাম পালন করেছিলেন এবং আমাদের প্রিয় নবী ও পালন করতেন। সুতরাং শবে বরাতের রোজা এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। বিখ্যাত মুহাদ্দিস বলেন, এ দিনের রোজা আইয়ামে বীজ অর্থাৎ চান্দ্রমাসের ১৩,১৪,১৫ তারিখের রোজার অন্তর্ভুক্ত (লাতায়িফুল মা'য়ারিফ পৃষ্ঠা ১৫১) এছাড়া মাসের প্রথম তারিখ মধু তারিখ শেষ তারিখ নফল রোজা গুরুত্বপূর্ণ তবে শবে কদরের রোজা এর আওতায় পড়ে। হযরত দাউদ আলাই সাল্লাম এর পদ্ধতিতে একদিন পর একদিন রোজা পালন করলে সর্বোপরি প্রতিটি রোজা হয় এবং শবে কদরের শামিল হয়ে যায়। সর্বোপরি রমজান মাসের রজব ও শাবান মাসের বেশি নফল নামাজ ও নফল রোজা পালন করতেন। শাবান মাসে কখনো কখনো পনেরোটি, কখনো বিশটি কখনো আরো বেশি রাখতেন এমনকি উম্মাহাতুল মুমিনীন মাতাগণ বর্ণনা করেছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে নফল রোজা রাখা শুরু করতেন মনে হতো তিনি আর কখনো রোজা ছাড়বেন না। (মুসলিম)

শবে বরাত ও হালুয়া রুটি শবে বরাতের সঙ্গে হালুয়া-রুটির একটি বিশেষ প্রচলন আমাদের দেশে দেখা যায়। হালুয়া একটি আরবি শব্দ অর্থ হল মিষ্টি বা মিষ্টান্ন। রাসুলুল্লাহ মিষ্টি পছন্দ করতেন সেটা আমরা সকলেই জানি এবং তিনি গোশত ও পছন্দ করতেন। তবে যাই হোক, শবে বরাত হলো ইবাদতের রাত, দান খয়রাত করা এবং মানুষকে খাওয়ানো ও একপ্রকার এবাদত। তবে এই দিনরাত কে হালুয়া-রুটি তে পরিণত করে ইবাদত থেকে গাফেল হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তেমনি হালুয়া রুটির উপর ফতোয়া প্রদান দেওয়া কোন জ্ঞানী লোকের কাজ নয়।

শবে বরাতের করণীয় যা যা করা উচিত: নফল নামাজ, তাহিয়্যাতুল অজু, দুখুলুল মসজিদ, আওয়াবীন, তাহাজ্জুদ সালাতুল হাজত, সালাতুত তাসবিহ, নামাজে কিরাত রুকু সিজদা দীর্ঘ করা, পরের দিন রোজা রাখা, কোরআন শরীফ সুরা দুখান ও অন্যান্য ফজিলত এর সূরা সমূহ তেলাওয়াত করা, দুরুদ শরীফ বেশি বেশি পড়া, তওবা-ইস্তেগফার অধিক পরিমাণ করা, দোয়া কালাম করা তাজবি তাহরির জিকির আজগার ইত্যাদি করা, কবর জিয়ারত করা, নিজের জন্য পিতা মাতার জন্য আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব ও সকল মুমিন মুসলমানের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা, এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা।

শবে বরাতের বর্জনীয় যা যা করা উচিত নয় : আতশবাজি, পটকা ফোটানো, ইবাদত-বন্দেগি না করে বিনা কারনে ঘোরাফেরা করা, অনাকাঙ্ক্ষিত আনন্দ উল্লাস , কথাবার্তা এবং বেপরোয়া আচরণ করা, শুধু তাই নয়, অন্য কারো ইবাদত এর ঘুমের বিঘ্ন ঘটানো, হালুয়া রুটি খাওয়া দাওয়া পেছনে বেশি সময় নষ্ট করা।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে ইসলামের সঠিক বুঝ দান করুন। - 

    __আমিন। 🤲🤲

#Shabe_barat
#শবে_বরাত #ফজিলত_ও_আমল - 
#করণীয়_ও_বর্জনীয়_ও_বিদআত  ||| 

No comments:

Post a Comment