Saturday, 11 June 2022

নবী সাঃ সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য, দোষীদের গ্রেফতারির দাবিতে অল ইন্ডিয়া সুন্নাত অল জামায়াতের সমাবেশ

নবী সাঃ সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য, দোষীদের গ্রেফতারির দাবিতে অল ইন্ডিয়া সুন্নাত অল জামায়াতের সমাবেশ 11/06/2022

বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাঃ সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করেন বিজেপি নেতা-নেত্রী নূপুর শর্মা ও নবীন জিন্দাল| সেই ঘটনায় প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়েছে চারিদিকে| সকলেই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানাচ্ছেন এবং দোষী নূপুর শর্মা ও নবীন জিন্দালের গ্রেফতারির দাবি জানাচ্ছেন| একইভাবে প্রতিবাদে সরব হলেন অল ইন্ডিয়া সুন্নাত অল জামায়াতের সাধারন সম্পাদক মুফতী আব্দুল মাতিন, জামিয়া রহমানিয়ার ডিরেক্টর মুফতী আব্দুল কাইউম সাহেব, স্বামী সত্যরুপ মহারাজ, ভানু সরকার, মুফতী রজব আলী, মাওলানা ইসমাঈল, মাওলানা মুসা সরর্দার সহ অল ইন্ডিয়া সুন্নাত অল জামায়াত ও মাগরীবি বাঙ্গাল আঞ্জমানে অয়েজিনের বক্তাগণ|  

এ দিন আব্দুল মাতিন বলেন, নবী মুহাম্মদ সাঃ মুসলিমদের কাছে পিতা-মাতার থেকেও প্রিয়| সেই মহামানব সম্পর্কে যেভাবে মন্তব্য করা হয়েছে, তা ক্ষমার অযোগ্য| তাই নূপুর শর্মা ও নবীনকে শাস্তি দিতেই হবে| তিনি অভিযোগ করেন, নূপুর বা নবীনের মন্তব্যের পেছনে বড় মাথা রয়েছে, তাদের মদদেই নবী সাঃ সম্পর্কে কুত্সিত মন্তব্য করা হয়েছে| এদের শাস্তি দিলেই অন্যরা আর অপরাধ করতে সাহস পাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন| 
 আন্দোলন সম্পর্কে মুফতী আব্দুল কাইউম সাহেব বলেন, আমরা সবাইকে বলব, আপনারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করুন, কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না| রাস্তা দখল করে অন্যদের অসুবিধা না করার জন্যেও তিনি অনুরোধ করেন| আপনারা স্থানীয় থানাতে অভিযোগ দায়ের করুন| তিনি আরও বলেন, নবী সাঃ অবমাননার বিরুদ্ধে, নুপুর শর্মার শাস্তির দাবীতে আমাদের এই সমাবেশে একজন সাধু বা সন্ত সত্যানন্দ মহারাজ জী নবীর অপমানের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখছেন! কয়েক হাজার মানুষের সমাগম কিন্তু একদম শান্তিপূর্ণ|
রাসুল (সাঃ) কে কটুক্তিকর মন্তব্য করার প্রতিবাদে- সচেতন সমাবেশ - অল ইন্ডিয়া সুন্নাত অল জামায়াত
∆∆ অল ইন্ডিয়া সুন্নাত অল জামায়াত এর ডাকে নুপুর শর্মার নবী বিরোধী বক্তব্যের প্রতিবাদে সচেতন সমাবেশ - 11/06/2022
All India Sunnat Al Jamayat

Basirhat, North 24 Pargana, West Bengal, India 🇮🇳
📸_- Jakir Hossain



Wednesday, 8 June 2022

মা আয়েশা (রাদিঃ) এর বিবাহ এবং বিবাহের বয়স নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলে থাকেন।

মা আয়েশা (রাদিঃ) এর বিবাহ এবং বিবাহের বয়স নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলে থাকেন।


#মা_আয়েশা (রাদিঃ) এর বিবাহ এবং বিবাহের বয়স নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলে থাকেন।। আমরা বিষয়টি নিয়ে অযথা বিতর্ক করে ফেলি।। বিতর্কে না গিয়ে,, আমার মনেহয় যুক্তিসহকারে বিষয়টি পর্যালোচনা করলে,, বহু প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।। 

পৃথিবীর কয়েক লক্ষ্য গ্রন্থ কেবলমাত্র সেই মহামানবকে আক্রমণ করার জন্য রচিত হয়েছে,, যাঁকে আল্লাহ সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছেন।। বিশ্বের যে কোনো অঞ্চলের মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষ তাদের শেষ নবী-কে (সাঃ) প্রানের চেয়েও বেশী ভালোবাসেন।। এটাই ইমানের শর্ত,, এই ভালোবাসার বন্ধন ছিন্ন করে দিতে,, ইসলাম বিরোধী শক্তি বারে বারেই নবীর (সাঃ) সম্মানে আঘাত করে থাকেন।। যদিও,, এই আঘাতের কারনে বিশ্বাসীদের বিশ্বাস তেমন কিছু আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে থাকে বলে মনে করি না।। 

এই আঘাতের সর্বশ্রেষ্ঠ হাতিয়ার হলো- "হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) কেনো 6 বছর বয়সী আয়েশা-কে (রাদিঃ) বিবাহ করেছিলেন ?? 

এটা প্রমাণিত সত্য যে,, হুজুর (সাঃ) মাত্র 6 বছর বয়সী আয়েশা-কে (রাদিঃ) বিবাহ করেছিলেন,, এবং,, নিজের 9 বছর বয়সকালে আয়েশা (রাদিঃ) হুজুরের বাড়িতে সাংসারিক দায়িত্ব পালনের জন্য চলে আসেন।। 
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে,, হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর বৈবাহিক জীবনে,, একমাত্র কুমারী স্ত্রী ছিলেন আয়েশা (রাদিঃ),, এছাড়া অন্যান্য সকল বিবাহ বিধবা অথবা ডিভোর্সি মহিলার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে।। 

অনেকেই প্রশ্ন তোলেন,, হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) একজন অপরিণত তরুণী-কে বিবাহ করেছেন,, যিনি বিবাহের জন্য পরিপক্ক ছিলেন না।। বিষয়টি নিয়ে বহু ক্ষেত্রে নানারকম বিতর্ক হয়েছে,, আমি নিজেও বেশ কয়েকজন বন্ধুর কাছে এই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি,, এবং,, যথাযথ ভাবে বিষয়টি তাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।। আমার সৌভাগ্য,, আমার অধিকাংশ বন্ধু বেশ যুক্তিবাদী এবং উদার মানসিকতার মানুষ,, অনেকেই আমার যুক্তি মেনে নিয়েছেন।। 

ইসলামে বিবাহের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়সের কথা উল্লেখ নেই,, আর,, এটাই হলো স্বাভাবিক।। কারণ,, ইসলাম গোটা বিশ্বের জন্য,, কুরআনের বিধান হলো সার্বজনীন,, তাই নির্দিষ্ট বয়সের কোনো উল্লেখ নেই,, কিন্তু বয়ঃসন্ধি-র কথা বলা হয়েছে।। কোরআনের আইন অনুযায়ী,,কোনো মহিলা বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছে গেলে,, তাকে বিবাহ করা যাবে।। 

বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছানোর নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই।। এটা বিভিন্ন দেশের জলবায়ুর উপর নির্ভরশীল।‌। গ্রীষ্ম-প্রধান দেশের ছেলেমেয়েরা,, তুলনামূলক ভাবে শীতপ্রধান দেশের চেয়ে অনেক আগেই বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছে গিয়ে থাকে।। 

এবার আপনি বলুন,, ইসলাম যদি বিহারের বয়স নির্দিষ্ট করে দিতো,, তাহলে সেটা যথাযথ হতো কি ?? বিভিন্ন দেশের মেয়েরা ভিন্ন ভিন্ন বয়সে পরিপক্কতা লাভ করে থাকে।। নাইজেরিয়ার মেয়ে মাত্র 10 বছর বয়সে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছে যেতে সক্ষম,, সেদেশে 11 বছরের মহিলাকে বিবাহ করা বৈধ।। অ্যাঙ্গোলা এবং ফিলিপাইনে 12 বছর বয়সে,, জাপানে মাত্র 13 বছর বয়সে একজন মেয়ে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছে গিয়ে থাকে।। 

কুরআনের আইন অপরিবর্তিত,, সকল সময়ে সকল ক্ষেত্রে সমান আইন প্রযোজ্য,, এজন্যই কোরআনে বিবাহের নির্দিষ্ট কোনো বয়স নির্ধারিত  হতে পারে না।। আমাদের দেশেও বহুবার বিবাহের বয়স পরিবর্তন করতে হয়েছে।। 

ইন্ডিয়ান পেনাল কোড 1860 অনুযায়ী একজন মেয়েকে 10 বছর বয়সে প্রাপ্তবয়স্ক এবং বিবাহযোগ্য হিসাবে বিবেচনা করা হতো।। সময়ের সাথে সাথে আইন পরিবর্তন হতে থাকে।। 1891 অনুযায়ী 12 বছর,, 1925 অনুযায়ী 14 বছর,, 1940 অনুযায়ী 16 বছর,, এবং,, সর্বশেষ 2013 অনুযায়ী 18 বছর বয়সী মহিলা সরকারিভাবে বিবাহযোগ্য হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে।। 

প্রাচীন কালের ইতিহাস দেখলে বোঝা যাবে,, অল্পবয়সী বিবাহ একটা সাধারণ ঘটনার অন্তর্গত ছিলো।। 

মনু-স্মৃতি অনুযায়ী -"একজন 30 বছর বয়সী পুরুষের,, 12 বছরের মেয়েকে বিবাহ করা উচিত।। 24 বছর বয়সী পুরুষের উচিত,, 8 বছর বয়সী মেয়েকে বিবাহ করা।।
(মনু-স্মৃতি - অধ্যায় 9,, শ্লোক 94)

অনুরূপ ভাবে বিষ্ণু-পুরানো লেখা রয়েছে- "তোমারা (পুরুষ) তোমাদের চেয়ে এক তৃতীয়াংশ কম বয়সী অবিবাহিত কন্যাকে বিবাহ করো।।"
(পুস্তক 3,, অধ্যায় 10,, পৃষ্ঠা 299) 

মহাভারত অনুযায়ী 30 বছর বয়সী পুরুষের উচিত 10 বছর বয়সী কন্যাকে,, এবং,, 21 বছর বয়সী পুরুষের উচিত,, 7 বছর বয়সী কন্যাকে বিবাহ করা।।
(অধ্যায় 44, পৃষ্ঠা 18)

আজকের আধুনিক যুগে নাইজেরিয়ার 11 বছর বয়সী মেয়ে,, সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা হয়ে ওঠে।। তাহলে বিবেচনা করে দেখুন,, 1400 বছর আগে,, উত্তপ্ত মরুভূমি বেষ্টিত অঞ্চল আরবের মহিলাদের 9 বছর বয়সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠা অস্বাভাবিক হতে পারে কি ?? 

মা আয়েশা (রাদিঃ) নিজেই হাদিসটি বর্ননা করেছেন - "তিনি 6 বছর বয়সে বিবাহ করেন,, এবং,, 9 বছর বয়সে সংসার করতে হুজুর (সাঃ) এর বাড়িতে আগমন করেন।। 
(বুখারী 4840,, মুসলিম 1422)

সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দিয়েছেন,, হজরত আয়েশা (রাদিঃ) নিজেই ,,তিনি বলেন -"যখন কোনো মেয়ে 9 বছর বয়সে পৌঁছে যায়,, তখন সে (তরুণী হতে) মহিলা হয়ে পড়ে।। (তিরমিযী - 1109)

হজরত আয়েশা (রাদিঃ) এর উপরিউক্ত বয়ান হয়ে পরিস্কার প্রমাণিত হয় যে,, উষ্ণ জলবায়ু এবং মরুভূমির দেশ আরবে তৎকালীন সময় একজন মেয়ে কেবলমাত্র 9 বছর বয়সে সম্পূর্ণ নারী হয়ে উঠতেন।। 

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজনীয় শ্রীরাম চন্দ্রের বিবাহের সময়,, মাতা সীতার বয়স কতো ছিলো জানেন ??
বাল্মীকি রামায়ণ অনুযায়ী ভগবান শ্রীরাম চন্দ্র যখন সীতাকে বিবাহ করেন,, তখন সীতার বয়স ছিলো মাত্র 6 বছর।। হয়তো তখনকার দিনে এটাই ছিলো স্বাভাবিক ঘটনা।। হতে পারে তৎকালীন সময়ের জলবায়ুর নিরিখে একজন ভারতীয় কন্যা,, মাত্র 6 বছর বয়সেই পরিপূর্ণ নারী হয়ে যেতে পারেন।। 

আমি টাইমস নাও চ্যানেলে নুপুর শর্মার সম্পূর্ণ বক্তব্য শুনেছি।। তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে ভদ্রমহিলা অত্যন্ত খারাপ ভাষায়,, কুৎসিত অঙ্গভঙ্গি করে ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে অহেতুক বিতর্কিত কথা বলে থাকেন।। তাঁর বাচনভঙ্গি অত্যন্ত নিন্দনীয়।। তাঁকে কোনোভাবেই ডিফেন্ড করা উচিত না।। 

কিন্তু,, তিনি কুৎসিত ভাষায় আক্রমণ করে যে প্রশ্নটি তুলেছেন,, সাধ্যমত উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করলাম।। 

আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় কোনো ত্রুটি  থাকলে সংশোধন করে দেবেন।। কারণ,, আমি বারে বারেই স্বীকার করে থাকি,, আমার ধর্মীয় জ্ঞান অত্যন্ত নগণ্য।। 
আলম মিদ্দে
❤️❤️❤️

#Islami
Muslim
jakirhossainonline